স্টাফ রিপোর্টার, চকরিয়া: দক্ষিণ চট্টগ্রাম তথা বাংলাদেশের অন্যতম বরেণ্য আধ্যাত্মিক সাধক চকরিয়া খুটাখালীর পীর আলহাজ্ব শাহ মাওলানা মরহুম হাফেজ আবদুল হাই (রহঃ)’র দুই দিনব্যাপি ইছালে ছাওয়াব মাহফিল ও খুটাখালী দারুল হুফ্ফাজ এতিমখানা, নূরানী মাদরাসা ও মসজিদে বায়তুল মা’মুর এর ৪৮তম বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার ২২জানুয়ারি জুমার নামায শেষে শুরু হওয়া এ মাহফিল রোববার ২৪ জানুয়ারি ফজরের নামাজের পর আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়। এতে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। দুই দিনব্যাপি এ মাহফিলে কুরআন হাদীনের আলোচনা ও গভীর রাতে তাসবিহ তাহলীল জিকির আজকারে অংশগ্রহণ করেন সর্বস্তরের জনসাধারণ। মাহফিলে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে ব্যবস্থাপনা কমিটির তরফ থেকে ত্বাবারুক (খাবার) বিতরণ করা হয়। হযরত শাহ মাওলানা হাফেজ আবদুল হাই (রহঃ) ফাউন্ডেশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় মরহুম খুটাখালীর পীর ছাহেব কেবলা (রহঃ) প্রবর্তিত দুই দিনব্যাপি মাহফিলের সমাপনি অধিবেশনে আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন শাহ আবদুল হাই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান বড় শাহজাদা আলহাজ্ব মাওলানা এস.এস মাওলানা মুহাম্মদ আনোয়ার হোছাইন। মাহফিলে দেশ বরেণ্য ওলামায়ে কেরাম, ইসলামী চিন্তাবিদ ও পীর মাশায়েখগন বিষয়ভিত্তিক আলোচনা পেশ করেন। মাহফিলে বক্তারা তাদের আলোচনায় বলেন, হাফেজ আবদুল হাই (রহঃ) ছিলেন এতদাঞ্চলের ইসলামের সঠিক পথপ্রদর্শক। তিনি মানুষদেরকে শিরক, গুমরাহ থেকে সরিয়ে এনে আলোর পথ দেখিয়েছেন। তিনি আলোকিত সমাজ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখতেন এবং দেখাতেন। মানুষকে অন্যায় পাপাচার থেকে ফিরিয়ে এনে পূণ্যের পথে জীবন পরিচালনার সর্বদা তাগিদ দিতেন তিনি। যার কারণে দেশের দিশেহারা-দিকভ্রান্ত অসংখ্য মানুষ মহান আল্লাহ তা’আলার নৈকট্য লাভের পথ খুঁজে পেয়েছিলেন। তাই পরকালীন কল্যাণ সাধনে কোরআন সুন্নাহ অনুযায়ী নবী রাসুলদের ওয়ারিশ পীর আউলিয়া তথা হক্কানী আলেম-ওলামাদের দেখানো পথে আমাদের অনুসরণ করে চলতে হবে।
উল্লেখ্য যে, বিগত ২০১৮সালের ২২জানুয়ারি সকলকে কাঁদিয়ে মহান আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে লক্ষ লক্ষ ভক্তকূলকে শোক সাগরে ভাসিয়ে অগণিত এতিম, অসহায় ও দুস্থ মানবতার সেবক আধ্যাত্মিক সাধক খুটাখালী তথা দেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেমেদ্বীন প্রসিদ্ধ পীর আলহাজ্ব হাফেজ আবদুল হাই ইন্তিকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে মরহুম মাওলানার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।

0 Comments